১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট। শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
মঙ্গলবার দেশটির সিনেট ও জাতীয় পরিষদ (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) আইনটি অনুমোদন করে। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার পর ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলো ফ্রান্স।
ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ বলেন, “ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্স ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতার ধারণা বাস্তবায়নের পথ খুলে দিল।”
নতুন আইনের আওতায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু বা কিশোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। ইতোমধ্যে খোলা থাকা অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের জন্য ফরাসি গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই আইনটি কার্যকর করতে চান। গত এপ্রিল মাসে তরুণদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমিয়ে বই পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ভালো নাগরিক হয়ে উঠতে হলে ডিজিটাল আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকার সমালোচনা করে ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা তোমাদের এমন এক জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছি, যা তোমাদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। আমাদের গতি কমাতে হবে এবং তোমাদের দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক ও নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সেই কারণেই আমরা চাই ১৫ বছরের আগে আর কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করা হোক।”
ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সাধারণত এ ধরনের সার্বিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে থাকে। তাদের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে বয়সসীমাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সরকার আইন পাস করলে তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনও শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। ফ্রান্সের নতুন আইনটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে বিষয়েও কমিশন মতামত দেবে।
0 মন্তব্য