ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য যে কোনো লিখিত বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় অথবা প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, জবাবে ছেলে/ মেয়ে তিনবার ‘কবুল’ বলে তা গ্রহণ করে, তাহলে কি তাদের বিয়ে হয়ে যায়?
সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহকে এমন প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে তিনি বলেন, ‘সাক্ষী, একই বৈঠক ও মোহর ছাড়া শুধু ম্যাসেঞ্জারে কবুল বললে বিয়ে হবে না। তবে দুজন সাক্ষী ও প্রতিনিধির উপস্থিতিতে দুষ্টমি করেও কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে যদি প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বলে, ‘আমি তোমাকে বিয়ে করলাম’। মেয়ে যদি সম্মতি দেয়, তাহলে বিয়ে হয়ে যাবে।’
বিয়ের জন্য মূল শর্ত হলো—পাত্র ও পাত্রী বা তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধি একই বৈঠকে উপস্থিত থেকে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করা। অনলাইন বা বার্তার মাধ্যমে এই ‘একই বৈঠকে উপস্থিতি’ নিশ্চিত হয় না। তাই এসব মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া ও গ্রহণ করলেও তা শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হয় না।
এছাড়াও বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কমপক্ষে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী সাক্ষী থাকতে হবে। যদি এই শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে সরাসরি মুখোমুখি ইজাব-কবুল হলেও বিয়ে শুদ্ধ হবে না।
এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—‘অভিভাবক এবং দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে (শুদ্ধ) হয় না।’ (ইবনে হিব্বান)
তবে সাক্ষীর ক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য— দুজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আলাদা করে সাক্ষী হিসেবে নির্ধারণ করাই বাধ্যতামূলক নয়। যদি কোনো বিয়ের আকদ এমন স্থানে সম্পন্ন হয় যেখানে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকে, এবং তারা ইজাব-কবুল প্রত্যক্ষভাবে শুনতে পায়, তাহলে তাদের মধ্য থেকেই সাক্ষীর শর্ত পূরণ হয়ে যায়।
যেমন— মসজিদে বিয়ের আকদ হলে, সেখানে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে যারা সাক্ষী হওয়ার যোগ্য এবং ইজাব-কবুল শুনেছে, তারা সবাই সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবে।
সুতরাং, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শুধুমাত্র ‘কবুল’ বলা যথেষ্ট নয়; বরং নির্ধারিত শরয়ি শর্তসমূহ পূরণ হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
0 মন্তব্য