এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর)। সকাল ১১টায় একযোগে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরপর শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে নিজেদের ফল জানতে পারবেন।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় ফল ঘোষণা করা হবে। প্রথমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে অন্য একটি অনুষ্ঠান থাকায় পরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যেভাবে জানা যাবে পরীক্ষার ফল
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা তিনভাবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানতে পারবেন।
প্রথমত, পরীক্ষার্থী যে শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছেন, সেই বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফল পাওয়া যাবে।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির নির্ধারিত দুটি ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে। ওয়েবসাইট দুটি হলো—
eduboardresult.gov.bd
educationboardresults.gov.bd
এ ছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা যাবে। এ জন্য মুঠোফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজিতে HSC লিখে একটি স্পেস দিতে হবে। এরপর শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
উদাহরণ: HSC DHA 123456 2026 লিখে পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। এ জন্য শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
আবেদন করতে প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পরীক্ষার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর ড্রপডাউন মেনু থেকে শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরবর্তী ধাপে মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।
এরপর পরবর্তী স্ক্রিনে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যেসব বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
প্রতিটি পত্রের জন্য পুনর্নিরীক্ষণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত নিয়ম আবেদন পোর্টালের ‘হেল্প’ অপশনে পাওয়া যাবে।
ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদন সম্পন্ন হবে।
আবেদন পরিবর্তন ও বাতিলের নিয়ম
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফি পরিশোধ করে একবার আবেদন জমা দেওয়ার পর নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় তা করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে আগে নির্বাচিত বিষয়গুলো প্রত্যাহার করে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে।
তবে যেসব বিষয়ের ফি ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে, সেগুলো বাতিল করা যাবে না। একবার ফি জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর আবেদন প্রত্যাহার কিংবা পরিশোধ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই।
এবার পাসের হার কমার আশঙ্কা
এদিকে, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে পাসের হার কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমতে পারে।
তাদের মতে, এবারই প্রথম সারা দেশে একই প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে রাজধানীর শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদেরও একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এতে ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে। কয়েকজন প্রধান পরীক্ষকের সঙ্গে কথা বলেও এমন ধারণা পাওয়া গেছে বলে জানান তারা।
তবে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা যে যেমন পরীক্ষা দিয়েছে, সে তেমন ফল করবে। তারিখ পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত, এটি শুধু শিক্ষা বোর্ডের একার সিদ্ধান্ত নয়।
১১ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।
আজ ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে এসব শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটবে।
0 মন্তব্য