রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। এ মামলায় তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে নৌপুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উত্তরখান থানায় মামলাটি করা হয়।
নৌপুলিশ ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল বলেন, তাহসিফের বাবা উত্তরখান থানায় হত্যা মামলাটি করেছেন। ওই মামলায় দ্বীপকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ ঘটনায় আরও তথ্য জানা যেতে পারে। মামলাটি উত্তরখান থানায় হলেও তদন্ত করবে নৌপুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরদিন টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন তিনি বলে তথ্য পাওয়া গেছে। নদীর সীমানাপ্রাচীরের ২৯ নম্বর পিলারের কাছ থেকে তার ঝাঁপ দেওয়ার তথ্য মেলে। পরে উত্তরখান থানাধীন তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত করছে নৌপুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাহসিফের বন্ধু দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পুলিশসহ কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন।
দ্বীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই মাজার বস্তি এলাকার হোন্ডা গলি থেকে তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে বলে জানা গেছে। শুক্রবার দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই। পরে শুক্রবার রাতে তাকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এখন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে নৌপুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।
0 মন্তব্য