২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুটি ড্যাশ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট নিয়ে ঢাকা-যশোর রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা। দুই বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক রুটে প্রবেশ করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের বেসরকারি এয়ারলাইনস খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে দেশীয় আকাশপথ থেকে আন্তর্জাতিক রুটে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পর এবার বহর সম্প্রসারণে বড় ধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ৬০ দিনের মধ্যে ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকা) উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।
রাজধানীর কুর্মিটোলায় ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল এ অর্থ সরাসরি নিজেদের তহবিল থেকে ব্যয় করবে না, বরং উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী ও লিজিং কোম্পানির অর্থায়নের মাধ্যমে উড়োজাহাজ নিয়ে ভাড়ার ভিত্তিতে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউএস-বাংলার এমডি।
উড়োজাহাজ কেনার পরিবর্তে লিজিংয়ের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ এয়ারলাইনস লিজিং কোম্পানির কাছ থেকে উড়োজাহাজ সংগ্রহ করে। বড় অংকের উড়োজাহাজের অর্ডারের ক্ষেত্রেও লিজিং প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিক অর্থায়নের বড় অংশ বহন করে। ফলে নিজস্ব মূলধনে পুরো বিনিয়োগ না করেও বহর বাড়িয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়।’
২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুটি ড্যাশ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট নিয়ে ঢাকা-যশোর রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা। দুই বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক রুটে প্রবেশ করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৬ সালের মে মাসে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার পর ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে বিস্তৃত হয় তাদের নেটওয়ার্ক। বর্তমানে ইউএস-বাংলার বিমান বহরে দুটি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০, নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ মোট ২৫টি বিমান রয়েছে। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশের অধিক উড়ান সময়মতো পরিচালনার রেকর্ড আছে ইউএস-বাংলার।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর ও রাজশাহীসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজুতে আন্তর্জাতিক সেবা দিচ্ছে ইউএস-বাংলা। বহর সম্প্রসারণের এ পরিকল্পনাটি নিজেদের ব্যবসাকে শুধু আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে নিয়ে যাওয়ার কৌশলের অংশ বলে জানান দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। ২০২৭ সালে মধ্যে আরো ২১টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে লন্ডন ও রোমে ২০২৮ এবং নিউইয়র্ক, টরন্টো ও সিডনিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
0 মন্তব্য