১২ বছরের মধ্যে তৃতীয়বার এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আর আগের দুইবারের মতো এবারও সেমিফাইনালের বড় মঞ্চে আলো ছড়ালেন লিওনেল মেসি।
২০১৪ বিশ্বকাপে ২৪ বছর পর ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। সেবারের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোল করতে না পারলেও মেসির পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ। টাইব্রেকারে দলের প্রথম পেনাল্টি নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেছিলেন তিনি। এরপর ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা, যদিও শেষ পর্যন্ত জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়।
আট বছর পর ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেসি ছিলেন আরও উজ্জ্বল। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করার পাশাপাশি দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ইয়োস্কো গভারদিওলকে পেছনে ফেলে জুলিয়ান আলভারেজকে দিয়ে করানো সেই গোল এখনো স্মরণীয়। সেই আসরে ফাইনাল জয়ের পর বিশ্বকাপ ট্রফিও তুলে ধরেছিলেন মেসি।
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও দেখা গেল একই চিত্র। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ০-১ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখান অধিনায়ক মেসি।
৮৬তম মিনিটে শর্ট কর্নার থেকে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থাকা এনজো ফের্নান্দেসকে বল বাড়ান মেসি। ইংলিশ রক্ষণ ভেবেছিল মেসিই ফিরতি বলের অপেক্ষায় থাকবেন, কিন্তু এনজো দারুণ ফিনিশিংয়ে বল পাঠান জালে। সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।
এরপর যোগ করা সময়ের শুরুতেই আবার মেসির জাদু। বক্সের ডান দিক থেকে তার নিখুঁত ক্রসে হেড করে লাউতারো মার্তিনেজ বল জড়ান ইংল্যান্ডের জালে। মাত্র ৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
দলকে টানা দ্বিতীয় এবং গত ১২ বছরে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন মেসি। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়ই যে তার কাছে বড়, তা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি।
বড় খেলোয়াড়রা বড় মঞ্চের জন্যই তৈরি হন। যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, তখনই নিজেদের সেরাটা দিয়ে জানান দেন তারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মেসি ঠিক সেটাই করলেন।
0 মন্তব্য