লিওনেল মেসির জাদুকরী নৈপুণ্যে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলি হিসেবে নামা লাউতারো মার্তিনেজের হেডে আসে জয়সূচক গোল, যা নিশ্চিত করে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের টিকিট।
৬৮ হাজার ২৩৯ দর্শকের উপস্থিতিতে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন তখন প্রায় হাতের মুঠোয় ছিল থমাস টুখেলের দলের।
তবে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করেন মেসি ও তার সতীর্থরা। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে মেসির বাড়ানো বল থেকে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। এরপর অতিরিক্ত সময়ের অপেক্ষা যখন প্রায় নিশ্চিত, তখন ৯২তম মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার কিংবদন্তি পারফরম্যান্সের মতো না হলেও, এই দুই দেরিতে করা গোল আর্জেন্টিনাকে মৃত্যুকূপ থেকে ফিরিয়ে এনে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল।
১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। এবার সেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেল আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে ৩৯ বছর বয়সী মেসি ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়তে চলেছেন।
আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সেখানে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
৩৯ বছর বয়স পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি মেসি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর পর ফাইনালে প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষেও খেলবেন তিনি।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পূর্ণতা পেয়েছে। কিন্তু তিনি যে এখনও থামতে রাজি নন, তার প্রমাণ মিলল এই সেমিফাইনালে।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডকে এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে হবে। মায়ামিতে শনিবারের সেই ম্যাচটি খেলবে দুই হতাশ দলই।
শেষ মুহূর্তে ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ড
এই দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনায় ভরপুর। মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ছিল একাধিক ফাউল ও শারীরিক লড়াই। মেসিকে ফাউল করে হলুদ কার্ডও দেখেন ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন। তবে প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫তম মিনিটে হ্যারি কেইনের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা আক্রমণ থেকে ডান প্রান্তে বল পান মরগান রজার্স। তার নিচু ক্রসে নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন।
তবে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানো আর্জেন্টিনা আবারও দেখাল তাদের লড়াইয়ের মানসিকতা।
জর্ডান পিকফোর্ড প্রথমে নিকো গনসালেসের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন। এরপর ৭৬তম মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর দূরপাল্লার শটেও এনজো ফার্নান্দেজকে হতাশ করেন পিকফোর্ড।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা হয়নি। ৮৫তম মিনিটে মেসির পাস নিয়ন্ত্রণে এনে দারুণ শটে সমতা ফেরান ফার্নান্দেজ। এরপর আক্রমণের ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা। আবারও পোস্টে আঘাত করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। অবশেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির অসাধারণ ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজের হেডে আসে জয়সূচক গোল। সেই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা, আর হতাশায় ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ড।
0 মন্তব্য