যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বন্ধ হয়ে থাকা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এসব শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছে ইরানি রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন আরাগচি। সেখানে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শর্তগুলো তুলে ধরেন তিনি।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—হরমুজ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ দ্রুত অবমুক্ত করা এবং সব ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টে’ যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর পরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।
পরবর্তী সময়ে ইরানের দিকে যাওয়া এবং দেশটির বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজের চলাচল ও ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ আরোপ করে। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরান ছাড়া অন্যান্য দেশের বন্দরগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের অবাধ যাতায়াতের স্বাধীনতা তারা রক্ষা করবে।
তারপরও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যের মূল্য বেড়েছে। এতে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে এবং ভোক্তা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়েছে।
0 মন্তব্য