দেশব্যাপী পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন সরকারি যানবাহনকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল থেকে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বার্তায় বলা হয়েছে, পুলিশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ডিউটির সময় চলমান যানবাহন এবং ডিউটি শেষে পার্কিংয়ে রাখা সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে সেটি অবশ্যই নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে এবং সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্যদের নজরদারিতে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া কোনো পুলিশি যানবাহন ফেলে রাখা যাবে না। অর্থাৎ, আনঅ্যাটেন্ডেড (Unattended) অবস্থায় কোনো যানবাহন রাখার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইন্স, অফিস কম্পাউন্ড কিংবা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সব সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর বার্তায় বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও অন্যান্য ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশের নিজস্ব লজিস্টিক ও যানবাহনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতেই এই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে পুলিশ সদর দপ্তর সম্ভাব্য হুমকির উৎস বা কোনো নির্দিষ্ট উগ্রবাদী সংগঠনের নাম প্রকাশ করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, পুলিশের যানবাহন ও সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়। এটি তেমনই একটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা। এতে জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
0 মন্তব্য