ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরীক্ষা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর শাস্তি’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভের মুখে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
মোদি বলেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই।” তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনেরও ঘোষণা দেন।
গত মে মাসে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)’ নামের একটি যুব সংগঠন।
বুধবার রাতে নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে হাজারো বিক্ষোভকারী জড়ো হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সেখানে ১০ হাজারের বেশি মানুষ সমবেত হয়েছিলেন।
পুলিশের দাবি, সংঘর্ষের সময় কিছু বিক্ষোভকারী পাথর ও প্লাস্টিকের বোতল নিক্ষেপ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লি মেট্রো কেন্দ্রীয় দিল্লির ১৬টি স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে।
সরকার ইতোমধ্যে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এক দফা বৈঠক করেছে এবং তাদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের প্রস্তাবও দিয়েছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা সরে আসবেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, চাকরির সংকট ও ঘন ঘন প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তরুণদের ক্ষোভই এই আন্দোলনকে সাম্প্রতিক সময়ে মোদি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ছাত্র-যুব চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে।
0 মন্তব্য