সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে সোনার কানের দুলের লোভে ফারজানা খানম (৮) নামের তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। সে নলতা গ্রামের এনামুল ইসলামের মেয়ে।
জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) সকালে স্কুলে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় ফারজানা। পরে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে স্কুলের সামনের ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে দেখা যায়। পরে রাতে সুরাইয়ার ঘরের আলমারির ড্রয়ার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
এদিকে শিশুটিকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত সুরাইয়া আক্তারকে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং এলাকা শান্ত করে।
নিহত ফারজানার খালা মরিয়ম বেগম জানান, আমার ভাগ্নিকে সোনার দুলের জন্যই হত্যা করা হয়েছে। ৮ বছরের ফারজানা প্রতিদিনের মতো সকালে সোনার কানের দুল পরে স্কুলে গিয়েছিল।
কিন্তু স্কুলের সামনের ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুরাইয়া আক্তার সোনার দুলের লোভে তাকে ডেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরের আলমারিতে মরদেহ লুকিয়ে রাখে।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানান, এরই মধ্যে শিশু ফারজানাসহ দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
তিনি আরো জানান, কেবল এক জোড়া কানের দুলের জন্যই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণ আছে, তা তদন্ত করে দেখছে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ।
মূল রহস্য উন্মোচিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
0 মন্তব্য