ইরান রোববার ঘোষণা দিয়েছে, একটি জাহাজ ‘অননুমোদিত নৌপথ’ ব্যবহার করায় সেটিতে হামলা চালানোর পর হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, এ ঘটনার জেরে কোনো ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব হবে ‘কঠোর ও ভয়াবহ’।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সমুদ্র নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন একটি জাহাজের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। পরে সেটিতে হামলা চালিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়। তবে জাহাজটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কয়েকটি জাহাজ অনুমোদিত নৌপথ উপেক্ষা করে চলাচলের চেষ্টা করেছিল এবং পথ পরিবর্তনের নির্দেশ অমান্য করেছিল। এ কারণে হরমুজ প্রণালি ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এবং ‘এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ থাকবে।
আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে অঞ্চলে শত্রুপক্ষের নতুন ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ করবে এবং কোনো ধরনের টোল ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌপথ উন্মুক্ত রাখবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানান, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আল-বুসাইদি মাসকাটে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। ওমান জানায়, কারিগরি ও রাজনৈতিক—উভয় পর্যায়েই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। বর্তমানে ইরানের কার্যত অবরোধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ওমান একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে। এতে ওমানের জলসীমার দক্ষিণ করিডোর দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচলের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। আর ইরানের জলসীমার উত্তর করিডোর ব্যবহার করতে হলে আগে তেহরানের অনুমতি নিতে হবে, তবে কোনো টোল আরোপ করা হবে না।
অন্যদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে তার নিহত পিতা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাকে হত্যার কোনো চেষ্টা হলে ইরানের বিরুদ্ধে ‘হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার’ জন্য মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইসরায়েল সম্প্রতি ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য ইরানি পরিকল্পনা সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে।
0 মন্তব্য