হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বা সার্বভৌমত্ব দখলের কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি জানান।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য এখনো প্রস্তুত নয়। তবে খুব শিগগিরই তেহরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজ নিয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। আইআরজিসি বলেছিল, ওই জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে তাদের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তবে সেন্টকম জানায়, মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে এবং মে মাসের শুরু থেকে প্রায় ৯০০টির বেশি জাহাজ নিরাপদে এই নৌপথ ব্যবহার করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে কোনো আন্তর্জাতিক জাহাজে নতুন করে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সরাসরি সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যের জবাবে পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মাজিদ মুসাভি বলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো তার পরিণতি ভোগ করবে। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনে এসব স্থানের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও অচল করে দেওয়ার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের নীতি স্পষ্ট—‘চোখের বদলে চোখ’। তার ভাষায়, ইরানের অবকাঠামো বা রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা হলে তেহরান তার কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দেবে।
0 মন্তব্য