টেকসই কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মাটি, পানি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বালাইনাশকের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা (পলিসি গাইডলাইন) প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিদ্যমান বালাইনাশক আইন, বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত পলিসি গাইডলাইন প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব। সদস্য-সচিব হিসেবে থাকবেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআই)-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব ফুড প্রফেশনালস এবং বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিদ্যমান বালাইনাশক আইন, বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত পলিসি গাইডলাইন প্রণয়ন করতে হবে।
এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, বালাইনাশকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিদ্যমান দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান।
কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে বালাইনাশক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যা বিশ্লেষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা বিশেষজ্ঞদের কো-অপ্ট করার সুযোগ।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বর্তমানে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এ কারণে বালাইনাশকের ব্যবহার যেন বিজ্ঞানসম্মত, পরিমিত ও পরিবেশবান্ধব হয়, সে বিষয়ে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন।
নতুন এই বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বালাইনাশক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নীতিগত সংস্কার আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
0 মন্তব্য