হালান্ড তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘A day we’ll never forget.’ এর অর্থ দাঁড়ায় একটি দিন, যা আমরা কখনো ভুলবো না। ব্রাজিলকে হারাতে পারলে দিনটি তার চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে- এমনটি হয়তো ইঙ্গিত দিয়েছেন হালান্ড।
আগামী সোমবার (৬ জুলাই) শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচ নিয়ে নরওয়েতে চলছে উন্মাদনা। দেশটির গেম চেঞ্জার হালান্ডও যে উন্মাদনার মধ্যে আছে তা তার ফেসবুক পেজে চোখ রাখলেই বোঝা যায়।
এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হিয়ে ব্রাজিলকে হারানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে হালান্ডের স্পষ্ট জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘তাদের হারানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।”
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস অবশ্য নরওয়ের পক্ষেই কথা বলে। ১৯৮৮ সালে প্রথম প্রীতি ম্যাচে দেখা হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের আরেকটি প্রীতি ম্যাচ এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল নরওয়ে। বিশেষ করে ফ্রান্স বিশ্বকাপের সেই ২-১ গোলের জয় আজও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। সর্বশেষ ২০০৬ সালের প্রীতি ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ফলে চার দেখায় দুটি জয় ও দুটি ড্র নিয়ে এখনো ব্রাজিলের বিপক্ষে অপরাজিত নরওয়ে।
তবে সেই পরিসংখ্যানকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ হালান্ড। তার মতে, বর্তমানের ব্রাজিল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী এবং তাদের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।
হালান্ড বলেন, “আমরা শেষ ষোলোতে উঠেছি। এখান থেকে প্রতিটি প্রতিপক্ষই দুর্দান্ত। তাই সামনে পথটা মোটেও সহজ নয়। পরের ধাপে যাওয়া খুব কঠিন হবে। আমরা পারব কি না, সেটাও নিশ্চিত নই। তবে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামবো।”
১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলছে নরওয়ে। দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুধু বিশ্বকাপে ফেরা নয়, এবার জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোতেও। তাই এই অর্জনকেই সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন দলের অধিনায়ক হালান্ড।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “এটা আমাদের জন্য ইতিহাস। অনুভূতিটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ২৮ বছর পর আমরা আবার বিশ্বকাপে খেলছি, গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে এখন নকআউটে উঠেছি। এবার নিউইয়র্কে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। এখন থেকে যা-ই অর্জন হবে, সেটাই আমাদের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি।”
0 মন্তব্য