দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কেনা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ছয়টি জেব্রার পাঁচটিরই মৃত্যু হয়েছে। জেব্রার এ শূন্যতা পূরণে দেশের কোনো সাফারি পার্ক বা চিড়িয়াখানা থেকে জেব্রা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
এজন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ।
তিনি বলেন, “আমাদের জায়গার তুলনায় অনেক বেশি বাঘ রয়েছে। সেখান থেকে এক জোড়া বাঘের বিনিময়ে দেশের ভেতর কোনো সাফারি পার্ক বা চিড়িয়াখানা থেকে তিন জোড়া জেব্রা আনার পরিকল্পনা করছি।
বর্তমানে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ১৭টি বাঘ রয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে রংপুর চিড়িয়াখানায় দুইটি বাঘ দিয়ে ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে এক জোড়া জলহস্তী আনা হয়েছিল এখানে।
২০১৮ সালে প্রায় নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৮ লাখ টাকার মতো খরচ করে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চারটি মাদি জেব্রাসহ ছয়টি জেব্রা আনা হয়েছিল চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। সে বছরই মারা গেছে চারটি জেব্রা।
চিড়িয়াখানা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের ৬ মার্চ আনা ছয়টি জেব্রার মধ্যে দুইটি জেব্রার মৃত্যু হয়েছে মারামারিতে আহত হয়ে। সে বছরের ২১ অক্টোবর মারামারিতে আহত হয়ে একটি জেব্রার মৃত্যু হয়। তারপর নভেম্বরে প্রসবকালীন জটিলতায় আরেকটি জেব্রার মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০২১ সালের ২৯ জুলাই মারামারি করে আরেকটি জেব্রার মৃত্যু হয়। এদিকে ২০২৪ সালের ৭ জুন ও চলতি বছরের ২৭ মার্চ আরও দুইটি জেব্রার মৃত্যু হয় প্রসবকালীন জটিলতায়। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় একটি জেব্রা আছে।
ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, “এখন যে জেব্রাটি আছে সেটি সঙ্গীহীন হয়ে পড়েছে। সে কারণে দেশের কোনো চিড়িয়াখানা বা সাফারি পার্ক থেকে জেব্রা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছি। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন আমরা পাব।”
ভালো নেই একমাত্র ক্যাঙ্গারুটি: ২০২২ সালে হল্যান্ড থেকে চট্টগ্রামে আনা হয় ছয়টি করে ক্যাঙ্গারু ও লামা। যেগুলোর মধ্যে চারটি করে মাদী ও দুইটি করে পুরুষ ছিল। ছয় ক্যাঙ্গারুর মধ্যে একটি কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় (আনার ১৫ দিনের মধ্যে) মারা যায়।
ওই সময় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলেছিল, যে ক্যাঙ্গারুটি মারা গেছে, সেটি মেয়ে। তাতে একটি প্রাণী কমে গেলেও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না।
চুক্তি অনুযায়ী ক্যাঙ্গারুগুলো ১৫ দিন ছিল কোয়ারেন্টিনে। ওই সময় পর্যন্ত প্রাণীগুলোর দায়-দায়িত্ব আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের। ওই সময়ের মধ্যেই ক্যাঙ্গারুটা মারা গেছে।
এরপর ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর, পরের বছরের ১৯ জানুয়ারি ও ২৩ অক্টোবর তিনটি এবং চলতি বছরের ২৪ জুন একটিসহ মোট পাঁচটি ক্যাঙ্গারুর মৃত্যু হয়।
ডেপুটি কিউরেটর শুভ বলেন, “সবগুলো ক্যাঙ্গারু ‘টক্সোপ্লাজমোসিস’ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যেটি আছে সেটিও এ রোগে আক্রান্ত। যেকোনো সময় সেটিরও মৃত্যু হতে পারে।”
তিনি জানান, এটি একটি মারাত্মক পরজীবী সংক্রমণ রোগ। এককোষী প্রোটোজোয়ার কারণে ক্যাঙ্গারুর মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ ঘটে। মারা যাওয়া ক্যাঙ্গারুগুলোর মতো বেঁচে থাকা ক্যাঙ্গারুটিও স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছে। এ কারণে সেটির মাথা বাঁকা হয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, বলেন কিউরেটর।
0 মন্তব্য