বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের এলাকা পোর্ট সালমান এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটির স্থাপনাসমূহে এই হামলা চালানো হয়েছে। একই সাথে তারা আমেরিকার একটি এমকিউ-৯ (MQ-9) ড্রোন ভূপাতিত করার কথা ঘোষণা করে বলেছে, ড্রোনটি তাদের অভিযানে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করলে সেটিকে গুলি করে নামানো হয়।
আজ (বুধবার) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি’র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহাম্মদি জানান, রাতভর মার্কিন বিমান হামলার পর দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের আকাশে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়।
তিনি বুধবার বলেন,আজ ভোরে সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমান আগ্রাসনের পর, বুশেহর প্রদেশের খোরমুজের আকাশে আইআরজিসি’র বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার আঘাতে একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।"
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশ এবং মাহশাহর-এর "বেশ কয়েকটি উপকূলীয় ঘাঁটি ও অসামরিক স্টেশনে" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পর এই ঘোষণাটি আসে। আইআরজিসি’র মতে, এই হামলা "প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে" এবং "ইসলামাবাদ চুক্তিকে পদদলিত করেছে"।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আগ্রাসনের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে, আইআরজিসি’র নৌ ও মহাকাশ বাহিনী একটি যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানে বাহরাইনের সালমান পোর্ট, মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এলাকা এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটির ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।"
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর জানাজায় ইরান ও ইরাকে মানুষের বিশাল সমাগমকে আড়াল করার উদ্দেশ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে, যা আদতে ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরাজয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, "যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামি উম্মাহর শহীদ নেতার নজিরবিহীন জানাজায় মহান ইরানি জাতি যে মহাকাব্য সৃষ্টি করেছে, তার পর আগ্রাসী মার্কিন শাসকগোষ্ঠী—যাদের পরাজয় দিন দিন আরও স্পষ্ট হচ্ছে এবং যারা শহীদ মুজাহিদ নেতার ঐতিহাসিক বিদায়লগ্নে গর্বিত ইরাকি জাতির মিলিয়ন-মানুষের গণজাগরণকে আরও বড় পরাজয় হিসেবে দেখছে—তারা আতঙ্কিত হয়ে আবারও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পুরনো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি করেছে। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে আড়াল করার এক মরিয়া চেষ্টায়, শিশুহত্যাকারী ও সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ ভোরে হরমুজগান প্রদেশের উপকূল এবং মাহশাহরের বেশ কয়েকটি উপকূলীয় ঘাঁটি ও বেসামরিক স্টেশনে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা স্পষ্টতই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ইসলামাবাদ চুক্তিকে পদদলিত করার শামিল।"
এদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক ও বেসামরিক এলাকাগুলোতে আমেরিকার বৈরী আগ্রাসন এবং চুক্তির ১৪টি ধারা লঙ্ঘনের জবাবে, আজ সকালে ইরানি সেনাবাহিনীর ড্রোন স্কোয়াড বাহরাইনে অবস্থিত "শেখ ঈসা ঘাঁটিতে" মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীর সমাবেশস্থলগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধী আমেরিকার বারবার এবং প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পরিণতি এটাই হবে যে—এই অঞ্চলে অবস্থিত সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি এখন থেকে সেনাবাহিনীর ড্রোনের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।
উল্লেখ্য, ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রথম দিন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী শহীদ হন।
গত সোমবার তেহরানে প্রধান জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং মঙ্গলবার কোমে পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। আজ বুধবার ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ বিদায় ও জানাজা অনুষ্ঠান চলছে।
আগামী বৃহস্পতিবার মাশহাদে চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আহলে বাইতের অষ্টম ইমাম, ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীকে চিরশায়িত করা হবে।
0 মন্তব্য