বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। বিনিয়োগকারীরা হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত সামান্য বাড়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বুধবার দিনের শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৪ সেন্ট বা ০.৮৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১৩ সেন্ট বা ০.১৬ শতাংশ কমে ৮২.২৩ ডলারে নেমেছে।
লেনদেনের একপর্যায়ে উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ১০ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাড়তে পারে—এমন আশাবাদেই মূলত তেলের দামে চাপ তৈরি হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য প্রকাশের পর তেলের দামের পতন কিছুটা কমে আসে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ৯৫ হাজার ব্যারেল বেড়ে ৪২ কোটি ৮৯ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ৫ লাখ ৯৭ হাজার ব্যারেল বাড়বে বলে ধারণা করেছিলেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান ও ওমানের আলোচনার কারণে বাজারের মনোভাব বদলে গেছে। স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি রিসার্চ বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, বাজারে দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ বিঘ্ন ও নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার বদলে এখন হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে খুলে দেওয়া, আলোচনার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা এবং নতুন সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার মতো বিশ্বাসযোগ্য কোনো চুক্তি হলে তেলের দামে থাকা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রিমিয়াম আরও কমে যেতে পারে।
বুধবার ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তির বিস্তারিত বিষয় চূড়ান্ত করতে ইরান ও ওমান কাজ করছে। এর আগে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছিল, দুই দেশ জলপথ ও এর মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব ভাগাভাগির একটি প্রক্রিয়ায় একমত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ এই জলপথ দিয়ে গেছে। আগের ১০ দিনের গড় ছিল ১৫টি জাহাজ, যা যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অনেক কম।
এদিকে সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার তেহরান সফরের পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পাকিস্তান ও ইরানের আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি বৃহস্পতিবার তেহরান সফর করবেন। সেখানে তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপের অনুকূল পরিবেশ তৈরির উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।
অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ সংকটও অব্যাহত রয়েছে। তিনটি তেলশিল্প সূত্র জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর বুধবার রাশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম তেল শোধনাগার ও দ্বিতীয় বৃহত্তম পেট্রোল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নর্সি রিফাইনারি অপরিশোধিত তেল পরিশোধন বন্ধ করে দিয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শান্তি চুক্তির আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর রাশিয়া কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও জোরদার করার কথা বিবেচনা করছে।
এদিকে রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে একটি মার্কিন বিলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সিনেটর জানিয়েছেন, আগামী মাসে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হবে বলে তিনি আশা করছেন। তাঁর দাবি, বিলটি পাস হলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধের অর্থায়নের প্রচেষ্টায় বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে।
0 মন্তব্য