কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। তবে খেলোয়াড়দের মতে, দলের সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছে ক্যামেরার বাইরে—হোটেলের কক্ষে এবং কোচিং স্টাফের অনুপস্থিতিতে নিজেদের মধ্যে হওয়া ব্যক্তিগত আলোচনায়।
দিদিয়ের দেশমের দল মঙ্গলবার স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে। মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিও ও ডিফেন্ডার জুল কুন্দে জানিয়েছেন, দলের ঐক্য শুধু কৌশলগত বৈঠক বা অনুশীলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
খেলোয়াড়রা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ম্যাচ বিশ্লেষণ করেন, একে অপরকে চ্যালেঞ্জ জানান এবং দেশম বা তার সহকারী কোচদের পরামর্শের বাইরেও নিজেদের সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।
রাবিও সাংবাদিকদের বলেন,“আমরা নিয়মিত নিজেদের মধ্যে অনেক আলোচনা করি। হোটেলে অবসর সময়ে ছোট ছোট দলে বসে ম্যাচ বিশ্লেষণ করি। কোচ ও স্টাফরা যা দেন, তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাদের উপস্থিতি ছাড়া খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যকার আলোচনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন,“আমরা সবাই একই ভাষায় কথা বলি, সবার লক্ষ্যও এক। প্রত্যেকে সেই লক্ষ্য অর্জনেই নিজের সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করছে।”
আক্রমণ থেকে শুরু হয় রক্ষণ
এই পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ফলেই ফ্রান্স একদিকে যেমন টুর্নামেন্টের অন্যতম ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে দলগত রক্ষণেও দেখিয়েছে অসাধারণ শৃঙ্খলা।
এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত ৮টি এবং দেম্বেলে ৫টি গোল করেছেন। তবে কুন্দের মতে, বল ছাড়া পুরো দলের পরিশ্রমই ফ্রান্সের অন্যতম বড় শক্তি।
তিনি বলেন,“আমরা রক্ষণে ভালো খেলেছি, তবে এটি শুধু ডিফেন্ডারদের কৃতিত্ব নয়। প্রতিপক্ষের প্রথম পাস থেকেই আমরা সম্মিলিতভাবে প্রেসিং শুরু করি। ওপরের সারি ও মিডফিল্ড যদি ঠিকভাবে কাজ করে, তাহলে আমাদের জন্য রক্ষণ সামলানো অনেক সহজ হয়ে যায়।”
মাঠের বাইরের সম্পর্কই মাঠে সাফল্যের ভিত্তি রাবিওর মতে, মাঠে যে বোঝাপড়া দেখা যায়, তার ভিত্তি তৈরি হয়েছে মাঠের বাইরের সম্পর্ক থেকেই।
তিনি বলেন,“আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। দলে সত্যিকারের সম্প্রীতি ও ঐক্য কাজ করছে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করা কঠিন, তবে মাঠের বাইরে সবকিছু এত ভালোভাবে চলছে যে সেই ইতিবাচক শক্তিই মাঠে প্রতিফলিত হচ্ছে।”
কুন্দেও একই সুরে বলেন,“আমরা একসঙ্গে খেলতে উপভোগ করি এবং একে অপরের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতেও আনন্দ পাই। ২০২২ সাল থেকেই এই দলের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য গড়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সেটি আরও দৃঢ় হয়েছে। সবাই একই লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, আর সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি।”
দেশমের বিদায় দলকে আরও অনুপ্রাণিত করছে
ফ্রান্সের এই যাত্রার পেছনে আরও একটি আবেগঘন কারণ রয়েছে। বিশ্বকাপ শেষে দীর্ঘ ১৪ বছরের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন কোচ দিদিয়ের দেশম। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন এবং ২০২২ সালেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তার মায়ের মৃত্যু হয়।
রাবিও বলেন, কোচের বিদায়ী আসর হওয়ায় খেলোয়াড়রা অতিরিক্ত অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।
“কোচ যেসব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন, তা আমাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে যখন জানি এটি ফ্রান্স দলের কোচ হিসেবে তার শেষ টুর্নামেন্ট, তখন তার জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিতে ইচ্ছা করে। এটাই সেই মুহূর্ত।”
0 মন্তব্য