ইরানের হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করতে নতুন দফায় কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, এ অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) ছোট নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, যুদ্ধবিমান, নৌযান, একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন এবং প্রথমবারের মতো সমুদ্রপথে পরিচালিত একমুখী ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন এই হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে কয়েক মাস ধরে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ‘ব্যর্থ করে দিয়েছে’। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আবারও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন বাহিনীর সমন্বয়ে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, আর কয়েকটি জাহাজ স্বাধীনভাবেও যাতায়াত করেছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, রোববার রাত থেকে নতুন করে এ হামলা শুরু হয়। এর আগে আগের রাতে প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, হাজ্জিয়াবাদ এবং ইরাক সীমান্তবর্তী খুজেস্তান প্রদেশও রয়েছে। কেশম দ্বীপের গভর্নর জানিয়েছেন, সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হলেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে মাহশাহরের একটি পানি পাম্পিং স্টেশনে হামলায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে আইআরএনএ জানিয়েছে।
এর আগে রোববার হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর সেটিতে আগুন ধরে যায় এবং নাবিকদের জাহাজ ত্যাগ করতে হয়। এরপর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এর জবাবে সেন্টকম জানায়, প্রণালিটি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত এবং সেখানে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে সংঘাতের বিস্তার ঘটিয়ে কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, জর্ডান ও ওমানেও হামলা ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি শান্ত করতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তানও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ
0 মন্তব্য