ক্যারিয়ারে প্রায় সব অর্জনই করেছেন লিওনেল মেসি। তবে ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি কখনও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে বুধবারের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে।
গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মেসি। এখন তার লক্ষ্য, আবারও দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা।
২০০৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক হয় মেসির। এর আগে তিনি বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতে আলোচনায় এসেছিলেন।
হাঙ্গেরির বিপক্ষে বুদাপেস্টে প্রীতি ম্যাচে কোচ হোসে পেকারম্যান তাকে অভিষেকের সুযোগ দেন। ৬৪তম মিনিটে লিসান্দ্রো লোপেজের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে হার্নান ক্রেসপোর সঙ্গে আক্রমণে যোগ দেন তিনি।কিন্তু অভিষেকের মাত্র ৯০ সেকেন্ড পরই কনুইয়ের আঘাতের অভিযোগে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিকে।
সেই ঘটনার পর ক্রেসপো বলেছিলেন,“১৮ বছর বয়সী একটি ছেলে জাতীয় দলে অভিষেক করছে, তার এত স্বপ্ন। তাকে এভাবে শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি। রেফারির আরও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত ছিল।”
সেই লাল কার্ডের কারণে তিন মাস পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নির্ধারিত একটি প্রীতি ম্যাচেও খেলতে পারেননি মেসি। এরপর আর কখনও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়নি আর্জেন্টিনা। ফলে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে এবারই প্রথম থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে খেলবেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর মেসি বলেন,“ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সব দলের বিপক্ষেই খেলেছি। তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তাদের বিপক্ষে খেলতে পারাটা দারুণ অনুভূতির।”
ম্যারাডোনার পথেই হাঁটার স্বপ্ন
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার কীর্তির পুনরাবৃত্তি করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন মেসি। এবারও তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার মতোই স্মরণীয় ছাপ রাখতে চান।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ মানেই ফিরে আসে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতি। সেবার ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং এরপর প্রায় অর্ধেক ইংলিশ রক্ষণ ভেঙে করা অবিশ্বাস্য গোল ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
মেসি হয়তো ঠিক সেরকম গোল করেননি, তবে বর্তমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে টুর্নামেন্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ছিলেন তিনি।
৩২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ২১ গোল করে তিনি ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে এক গোল এগিয়ে আছেন।
ইন্টার মায়ামি তারকা সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করেছিলেন। তবে শেষ ম্যাচে গোলের দায়িত্বটা তুলে দেন সতীর্থদের, বিশেষ করে হুলিয়ান আলভারেজের কাঁধে।
আরেকটি ইতিহাসের সামনে আর্জেন্টিনা
ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে আর্জেন্টিনা। পাশাপাশি ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগও তৈরি হবে।
এটি হবে চারটি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার তৃতীয় ফাইনাল। আর মেসি পৌঁছে যেতে পারেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর কাতারে, যিনি ১৯৯৪ থেকে ২০০২ পর্যন্ত টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিলেন। এমনকি ম্যারাডোনাও খেলেছিলেন মাত্র দুটি ফাইনাল।
মেসি বলেন,“আরেকটি সেমিফাইনালে ওঠা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটা আমাদের উপভোগ করা উচিত, কারণ ভবিষ্যতে আবার এমন সুযোগ আসবে কি না, তা আমরা জানি না।”
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রাও মেসির বিপক্ষে খেলার সুযোগটি দারুণভাবে উপভোগ করতে চান।
সম্ভাব্য লেফট-ব্যাক নিকো ও’রেইলি বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে বলেন,
এটা জীবনে একবারই আসে এমন সুযোগ। মেসি ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে আছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে তিনিই ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। তার বিপক্ষে খেলতে মুখিয়ে আছি।
0 মন্তব্য