Main Menu

সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে কুশল বিনিময় শেখ হাসিনার

ইয়াসমিন আক্তার:: নয়াদিল্লির হোটেল তাজে রোববার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের কংগ্রেস পার্টির সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সাক্ষাৎ। ছবি: পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। ভারতের নয়াদিল্লির হোটেল তাজে রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান সোনিয়া গান্ধী। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে আগামী বছর সোনিয়া গান্ধী ও তার পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাতের পর ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, এ সময় দুই নেত্রী তাদের পুরনো দিনের কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াংকা গান্ধী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। রাজনীতিতে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রিয়াংকাকে অভিনন্দন জানান। এছাড়া ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় প্রধান আনন্দ শর্মাসহ দলটির বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। সোনিয়া গান্ধী এ সময় বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আমার অনুপ্রেরণা শেখ হাসিনা -প্রিয়াংকা : ভারতের কংগ্রেস দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্র রোববার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে এবং তার কাছ থেকে আলিঙ্গন পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

প্রিয়াংকা এক টুইট বার্তায় বলেন, শেখ হাসিনাজির কাছ থেকে আমি একটি ‘বহু আগেই প্রাপ্য’ আলিঙ্গন পেলাম। দীর্ঘদিন ধরে আমি তার সঙ্গে আবার দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

গভীর ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগ পার হওয়া এবং যা বিশ্বাস করেন তা অর্জনের জন্য সাহস ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে লড়াইয়ে তার শক্তি আমার জন্য সব সময় একটি বিরাট ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

প্রিয়াংকা একটি ছবি পোস্ট করেন, যাতে তাকে শেখ হাসিনার সঙ্গে আলিঙ্গন করতে এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংকে পাশে দাঁড়ানো দেখা যাচ্ছে।

নিরামিষ দিয়ে হাসিনাকে আপ্যায়ন মোদির : ভারতীয় পত্রিকা আনন্দবাজার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিরামিষ বিভিন্ন পদ দিয়ে শনিবার মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নিরামিষভোজী মোদির আমন্ত্রণে এ ভোজে প্রথমেই দেয়া হয় দিল্লির পরিচিত দই ভল্লা পাপড়ি চাট ও বাংলার মোচার চপ। এরপর রাজমা-চালমগজের গলৌটি, কড়াই সবজি, গ্রেভিতে মাশরুম ভরা বড়া, মটরশুঁটির ডালনা, বেগুন আর পটোল ভাজা, শাহী ডুঙ্গরি ডালসহ নানা প্রকার রুটি এবং বাদশাহী পোলাও। শেষে দেয়া হয় ছানার মালপোয়া, গুড়ের মিষ্টি দই, মাখা সন্দেশ ও বিভিন্ন ধরনের ফল।

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদির আমন্ত্রণে ৪ দিনের সফর শেষে নয়াদিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার এ সফর শুরুর পরদিন ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন তিনি, যাতে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

রোববার ভারতের স্থানীয় সময় রাত ৮টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে দিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটি থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে রওনা হন শেখ হাসিনা। তাকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশুকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ও বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীর বিমানটি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

টানা তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই শেখ হাসিনার প্রথম ভারত সফর। ভারতেও মোদি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন।

এ সফরে শুক্রবার নয়াদিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে যোগ দেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ওপর কান্ট্রি স্ট্র্যাটেজি ডায়ালগে অংশ নেন তিনি। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা এবং বাংলাদেশ-ভারত ব্যবসায়িক ফোরামের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও ভারতের ব্যবসায়ীদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। ভারতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর সিইওদের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করেন।

দিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে শনিবার দুই প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে বসেন। তাদের উপস্থিতিতেই দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এছাড়া তারা উদ্বোধন করেন তিনটি যৌথ প্রকল্প। ওইদিনই ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করেন শেখ হাসিনা। শান্তি প্রতিষ্ঠা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে অবদানের জন্য কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ‘ঠাকুর শান্তি পুরস্কার-২০১৮’ তুলে দেয়।






আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*