সর্বশেষ

স্টাফ | আপডেট: ০৪:১১, ডিসেম্বর ০৯ , ২০১৭




ডেস্ক রিপোর্ট:: দুর্নীতি ও ঋণ অনিয়মের কারণে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। শুধু গত তিন মাসেই বেড়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা।
 
ইতিমধ্যে এ ধরনের মন্দ খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা আদায়ের কোনো সম্ভাবনা নেই।
 
এদিকে এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৬ হাজার কোটি টাকা দৃশ্যমান থাকলেও অবলোপনের মাধ্যমে ৪৫ হাজার কোটি টাকা চলে গেছে গোপন খাতায়, যা কেউ দেখবে না।
 
প্রসঙ্গত, অবলোপন হল সেসব মন্দ খেলাপি ঋণ যা পাঁচ বছরেও আদায় করা সম্ভব হয়নি। এ ঋণ ব্যাংকের মূল হিসাব থেকে বাদ দিয়ে আলাদা খাতায় লেখা হয়। তবে তার আগে অবলোপনযোগ্য খেলাপির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে শতভাগ নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। এ ছাড়া মামলা করতে হয় অর্থঋণ আদালতে।
 
সূত্র বলছে, আসলে এগুলো সবই এক ধরনের আইওয়াশ। মূলত এসব ঋণের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঋণদাতা ও গ্রহীতা একই চক্র। ভুয়া প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে কৌশলে দু’পক্ষ মিলে ঋণের টকা আত্মসাৎ করে।
 
এমনও অভিযোগ আছে, পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবশালী ব্যক্তি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে নিজেই ঋণের পুরো টাকা তুলে নিয়ে কিছুদিন পর তা খেলাপি দেখায়। এরপর যথানিয়মে তা অবলোপন করা হয়। আর অবলোপনের সময় নিরাপত্তা সঞ্চিতির নামে যে অর্থ ব্যাংকে রাখা হয় তার মধ্যেও শুভঙ্করের ফাঁকি আছে।
 
মোদ্দাকথা, খেলাপি ঋণের জন্য ব্যাংক মালিক, পরিচালনা পর্ষদ কিংবা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কারও কিছুই হয় না। মাঝখানে সরকারি ব্যাংক হলে রাষ্ট্রের তহবিল থেকে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ভর্তুকি দিয়ে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মেটানো হয়। আর ব্যক্তি খাতের ব্যাংক হলে নানা কৌশলে অবলোপনকৃত অর্থের বোঝা চাপানো হয় ভালো ঋণগ্রহীতাদের ওপর।
 
ব্যাংকের পরিচালনা ব্যয় বেশি দেখিয়ে চড়া সুদ আরোপ করে এসব ঘাটতি সেখান থেকে মেটানো হয়। এর ফলে বাড়তি সুদের চাপে শিল্পপ্রতিষ্ঠান এগোতে পারে না।
 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত ঋণ অবলোপন করে ব্যাংকের স্বাস্থ্য সাময়িক ভালো দেখানো হয়। এ ছাড়া পুনঃতফসিলের আশ্রয় নিয়ে অনেকে খেলাপিমুক্ত থাকার চেষ্টা করেন। এ চেষ্টায় আবার নতুন করে যোগ হয়েছে ঋণ পুনর্গঠন। এসব প্রক্রিয়া বৈধ হলেও এর অপব্যবহার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। গুটিকয়েক খারাপ ব্যবসায়ীর কারণে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন তারা।
 
ভালো ঋণগ্রহীতাদের অনেকে যুগান্তরকে জানিয়েছেন, যারা দফায় দফায় ঋণখেলাপি এবং আর্থিক সেক্টরে যাদের ইমেজ সংকট রয়েছে তাদের জন্য ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা দেয়া সমীচীন হবে না। আসলে এটিও তাদের এক ধরনের ফাঁদ। সাধারণ ঋণখেলাপিদের চেয়ে এরা খুবই বিপজ্জনক।
 
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া যোগসাজশ করে যেসব ঋণ দেয়া হয় সেগুলো আদায় অযোগ্য খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ মন্দ খেলাপি ঋণ অর্থঋণ আদালতে আটকে আছে। কারণ বারবার কোর্টের স্থগিতাদেশ নিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী এসব টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। সে কারণে উচ্চপর্যায়ের একটি শক্তিশালী আদালত গঠন করে এ মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা দরকার।
 
একজন সিনিয়র ব্যাংক বিশ্লেষক যুগান্তরকে বলেন, ঋণ দুর্নীতি এখন বড় অঙ্কের অর্থ লুটপাটের সবচেয়ে সহজ পন্থা। কারণ বিচার কিংবা শাস্তি হয় না। আবার জবাবদিহিতাও নেই। বড়জোর মামলায় গেলে প্রভাবশালীরা খুব সহজেই তা বশীভূত করে ফেলে। স্থগিতাদেশ নিয়ে উল্টো বহাল তবিয়তে থাকে। আর ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ঋণ পকেটস্থ করতে পারলে তো কেল্লাফতে। ধরপাকড়ের কোনো ঝামেলা নেই। অবলোপন সুবিধা তো আছেই।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা আদায় অনিশ্চিত খেলাপি ঋণ। এ ধরনের খেলাপির বিপরীতে শতভাগ নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে হয়। এর ফলে ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়ে। এটা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে ব্যাংকিং খাত মুখ থুবড়ে পড়বে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ৬৫ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
 
সাবেক জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে খেলাপিরা বেরিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বসহকারে নজরে নেয়া দরকার। তবে সবকিছুর আগে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। যাচাই-বাছাই করে ঋণ দিতে হবে। কাকে ঋণ দিচ্ছি তাকে আগে চিনতে হবে।
 
অস্বাভাবিক গতিতে আদায় অনিশ্চিত মন্দ খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ খান যুগান্তরকে বলেন, কিছু ব্যবসায়ী কোর্টের স্থগিতাদেশ নিয়ে বসে থাকেন। এটা খুবই নিন্দনীয়। তারা এগিয়ে না এলে এ সমস্যা সমাধান করা কঠিন হয়ে যাবে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে আরও দেখা যায়, সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি ৬ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। একইভাবে সরকারি বিশেষায়িত ২ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা, যা ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ৩৯টি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ২৭ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যা ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া বিদেশি ৯ ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণ ২ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, যা ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ।
 
পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল হালিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আদায় অনিশ্চিত ঝুঁকিপূর্ণ এসব খেলাপি ঋণ অনেক পুরনো। ২০১০ ও ’১১ সালে দেয়া বেশিরভাগ ঋণই মন্দ ঋণে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া রিসিডিউল এবং রিস্ট্রাকচার করা বেশিরভাগ ঋণ সাময়িক খেলাপিমুক্ত দেখানো হলেও এখন সেগুলো আবার খেলাপি হচ্ছে। সে কারণে মন্দ খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে গেছে।
 
নতুন ঋণের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যেসব ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে তার বেশিরভাগই ভালো। এসব ঋণ আগামী কয়েক বছরেও খারাপ হবে না

পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ছেই

স্টাফ | আপডেট: ০৪:০৯, ডিসেম্বর ০৯ , ২০১৭

ডেস্ক রিপোর্ট:: প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বেড়েছে আনুপাতিক হারে। নতুন পেঁয়াজ উঠার মৌসুমে.....

বিয়োগের চেয়ে যোগ অঙ্কই সোজা

স্টাফ | আপডেট: ০১:২৭, ডিসেম্বর ০৭ , ২০১৭

ডেস্ক রিপোর্ট:: কোনো এক মানবীকে দুই আনা চিনতে পেরে ভেবেছে পুরোটাই চিনে ফেলেছে, অতঃপর লিখেছে ষোলো আনার একটি কবিতা- আমরা যারা লেখাপড়া জানা পুরুষ, তাদের অনেকেই তেমন কবি ছিলাম যৌবনে। কিন্তু এই.....

ভারত থেকে দেড় লাখ টন চাল আমদানি করা হবে

স্টাফ | আপডেট: ০৮:৪০, ডিসেম্বর ০৬ , ২০১৭

ডেস্ক রিপোর্ট:: প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে দেড় লাখ মেট্রিক টন চাল (নন-বাসমতি) আমদানি করা হবে। প্রতি টনের মূল্য হচ্ছে ৪৪০ মার্কিন ডলার। এই চাল আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ৫৪৮ কোটি.....

এনআরবি কমার্শিয়ালের এমডিকে সরাল.....

প্রতিনিধী | আপডেট: ০৬:৫২, ডিসেম্বর ০৬ , ২০১৭

ডেস্ক রিপোর্ট:: এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের (এনআরবিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক-এমডি দেওয়ান মুজিবর রহমানকে অপসারণ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এছাড়া আগামী দুই বছর মুজিবরকে কোনো.....

সাত ব্যাংকের মূলধনও হাওয়া

স্টাফ | আপডেট: ০৮:০৫, ডিসেম্বর ০৪ , ২০১৭

ডেস্ক রিপোর্ট:: ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমানত ফেরত দিতে পারছে না ফারমার্স ব্যাংক। ভুক্তভোগী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টাকা ফেরত চেয়েও পায়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩০০ কোটি টাকা.....

নিত্যপণ্যে দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ

স্টাফ | আপডেট: ০৭:৫১, ডিসেম্বর ০৪ , ২০১৭

ডেস্ক রিপোর্ট:: হঠাৎ করেই মার্কিন ডলারের বাজার অস্থির। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে আমদানি পণ্যে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর নিত্যপণ্যের দাম কয়েক দিন ধরেই বাড়তে শুরু করেছে। সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়েছে.....

  • সর্বশেষ
  • সর্বশেষ পঠিত

অবশেষে রানার বিরুদ্ধে আদালতে দুদকের চার্জশিট দাখিল

( ১০ জুলাই ২০১৪ ০৪:৫২ )

বাধা দিলে পাল্টা জবাব- খালেদা

( ১০ জুলাই ২০১৪ ০৪:৫২ )

'নক্ষত্র'-এ ই-শপিং

( ১০ জুলাই ২০১৪ ০৪:৫২ )

বিশ্বের শীর্ষ এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নেই ঢাবি

( ১০ জুলাই ২০১৪ ০৪:৫২ )