Main Menu

সম্রাট ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে হৃদরোগ হাসপাতালে

 

কাজী সাবরিনা::যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট এখন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট (এনআইসিভিডি) হাসপাতালে। বুকে ব্যথার কথা বলায় মঙ্গলবার সকালে তাকে হৃদরোগ চিকিৎসার বিশেষায়িত এই হাসপাতালে নিয়ে আসে কারা কর্তৃপক্ষ।

সম্রাটের শারীরিক অবস্থা জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক দেখতে পান। তবে তিনি হৃদরোগী হওয়ায় তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তার চিকিৎসায় ৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ সময় শেষে তার সব পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে, তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হবে নাকি ছেড়ে দেয়া হবে সে সিদ্ধান্ত আজ জানাবে মেডিকেল বোর্ড। মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৩টায় এনআইসিভিডি ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

গত মাসের (সেপ্টেম্বর) ১০ তারিখে সম্রাটের হৃদযন্ত্রে পেসমেকার লাগানোর কথা ছিল বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

জানা গেছে, বুকে ব্যথা অনুভব করলে সকাল সাড়ে ৭টায় সম্রাটকে কারাগার থেকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর ঢামেক চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে এনআইসিভিডি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হৃদরোগ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই যুবলীগ নেতাকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হৃদরোগ হাসপাতালে নিয়ে আসে কারা কর্তৃপক্ষ।

এ সময় শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্রাটকে ভর্তি করে করনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) তিন নম্বর শয্যায় স্থানান্তর করে।

ভর্তির পর হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান, সার্জারি বিভাগের আরএস (রেসিডেন্ট সার্জন) ডা. আশরাফুল হক সিয়াম এবং কার্ডিওলজির আরপি (রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান) ডা. ফাদিয়া আফরোজ ঝুমার সমন্বয়ে ৩ সদস্যের প্রাথমিক একটি মেডিকেল বোর্ড করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হৃদরোগ হাসপাতালের দু’জন চিকিৎসক যুগান্তরকে জানান, এই বোর্ডের পরামর্শে সম্রাটের আইএনআর, টিপ্রিনিন-আই, ব্লাড সুগার, ইলেক্ট্রোলাইট, বিলোরবিন, ইসিজি এবং ইকো কার্ডিও গ্রাফ পরীক্ষা করানো হয়।

এই পরীক্ষাগুলোতে বিলোরবিন ছাড়া সব ফল স্বাভাবিক পাওয়া যায়। রক্তে বিলোরবিনের পরিমাণ সামান্য বেশি পাওয়া গেছে। তবে সেটি কয়েকদিন নির্ঘুম থাকার কারণে বা ক্লান্তির কারণে হতে পারে।

সিসিইউ সংশ্লিষ্টরা জানান, যুবলীগ নেতা সম্রাটকে সিসিইউতে স্থানান্তরের পর সেখানে তার দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী এবং ভাই বাদল সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তারা সম্রাটের শয্যাপাশে কে থাকবে এই দু’জনে তর্ক শুরু করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।

পরে পুলিশের নির্দেশে তারা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। এ ঘটনার পর সম্রাটকে সিসিইউ-১ এর বি-১২ শয্যায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার শয্যাপাশে কারা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে।

দুপুর ১২টার দিকে সম্রাটের বুকের এক্সরে করতে পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে তার এক্সরে হৃদরোগ হাসপাতালের কোনো মেশিনে করা হয়নি। বাইরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পোর্টেবল মেশিন এনে তার বুকের এক্সরে কথা হয়। বেলা আড়াইটার দিকে একজন চিকিৎসক পুনরায় সম্রাটের ইসিজি পরীক্ষা করে। তখনও তার ইসিজি রিপোর্ট স্বাভাবিক আসে। কিন্তু তখন সম্রাট বলেন, আমার বুকে ব্যথা হচ্ছে। কোথায় কিভাবে ব্যথা হচ্ছে সেটি তিনি বলতে পারছেন না। তখন চিকিৎসক সম্রাটকে বলেন, আপনার হৃদযন্ত্রে কোনো সমস্যা দেখতে পাচ্ছি না। যদি আপনি বুকে ব্যথার কথা বলেন, তাহলে আমরা ওষুধ স্প্রে করব। কিন্তু আপনার ব্যথা না থাকলে স্প্রে করলে কিন্তু সমস্যা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত স্প্রে করেননি ডাক্তাররা।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক সিসিইউতে কর্মরত একজন চিকিৎসক যুগান্তরকে বলেন, সম্রাটের হৃদযন্ত্রে এর আগে বাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তার যদি বাল্বে কোনো সমস্যা হয়, তাহলে তার শ্বাসকষ্ট হবে, শরীরে ঘাম হবে, রক্তের ঘনত্ব বাড়বে। কিন্তু আমরা পরীক্ষা করে এ ধরনের কোনো উপসর্গ পাইনি। তাছাড়া তিনি স্বাভাবিক কথা বলতে পারছেন এবং হাসপাতাল থেকে সরবরাহকৃত তরল খাবারও স্বাভাবিকভাবে খেতে পারছেন।

অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের অবস্থা স্বাভাবিক। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। জরুরি কিছু পরীক্ষা করানো হয়েছে, যার রিপোর্ট ভালো। তবুও তাকে ২৪ ঘণ্টার জন্য অবজারভেশনে রাখতে হচ্ছে। কারণ যে কোনো হৃদরোগের রোগী এলে নিয়মানুযায়ী অবজারভেশনে (পর্যবেক্ষণে) রাখা হয়।

তিনি বলেন, আজ সরকারি ছুটির দিন সত্ত্বেও চিকিৎসকরা সময় দিচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আগামীকাল সকালে মেডিকেল বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে। আসল কথা হল সম্রাট সাহেব এখন স্টেবল। সব রিপোর্টও ভালো।

গত মাসে পেসমেকার লাগানোর কথা ছিল : সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখে সম্রাটের হৃদযন্ত্রে পেসমেকার লাগানোর কথা ছিল বলে জানিয়েছেন সম্রাটের আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। শাহনাজ পারভীন বলেন, আমরা আজ সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেছি। তাদের অনুমতি নিয়ে অসুস্থ সম্রাটের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের অনুমতি দেননি। তারা জানিয়েছেন, সম্রাট চিকিৎসকদের অবজারভেশনে আছেন। এছাড়া সম্রাটের সঙ্গে দেখা করতে কারা কর্তৃপক্ষও অনুমতি দেননি। সম্রাটের আইনজীবী বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর সম্রাটের পেসমেকার লাগানোর কথা ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের কারণে তিনি বিদেশে যেতে পারেননি। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ, সম্রাটকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হোক। তিনি বলেন, গতকাল (সোমবার) তারা কারাগারে কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে কিছু সময় সম্রাটের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় সম্রাট বুকে হাত দিয়ে বারবার বলছিলেন, বুকে ব্যথা। এক প্রশ্নের জবাবে সম্রাটের আইনজীবী বলেন, আগে সম্রাটের চিকিৎসা, সুস্থতা তারপর বিচার। আগামীকাল আমরা আদালতে যাব এবং এ বিষয়ে আদালতের অনুমতি চাইব।

প্রসঙ্গত, যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। গত রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় আত্মগোপনে থাকা সম্রাটকে। তার সঙ্গে আরমানকেও আটক করা হয়। পরে সম্রাটকে ঢাকায় এনে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদও করে র‌্যাব। রোববার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল সম্রাটকে নিয়ে কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তালা ভেঙে তারই কার্যালয়ে ঢুকে অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত অভিযান চলে। সম্রাটের কাকরাইলের কার্যালয় থেকে একটি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া জব্দ করে তারা। পরে ছয় মাসের জেল দিয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



(পরবর্তি সংবাদ) »



আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*