Main Menu

রিমান্ড শেষে সেলিম প্রধান কারাগারে

মাহিয়া চৌধুরী:: ক্যাসিনোর আন্তর্জাতিক গডফাদার সেলিম প্রধান ও তার দুই সহযোগীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার দুই সহযোগী হলেন মো. আখতারুজ্জামান ও রোমান। মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদ উর রহমান আসামিদের কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

এদিন গুলশান থানায় করা মাদক আইনের মামলায় আসামিদের চারদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আমিনুল ইসলাম এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে আসামিদের কাছ থেকে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামিদের আবার রিমান্ডে নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আসামিরা জামিন পেলে চিরতরে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আসামি সেলিম প্রধান ও রোমানের পক্ষে আইনজীবী ইয়াসিন জাহান জামিন শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামিরা নির্দোষ। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের ফাঁসানো হয়েছে। তারা পরিস্থিতির শিকার। যে কোনো শর্তে আসামিদের জামিন প্রার্থনা করেন তিনি। আসামি আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী নজরুল ইসলাম মামুন জামিন শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামিকে ষড়যন্ত্রমূলক ফাঁসানো হয়েছে। কথিত প্রতিষ্ঠানে তিনি ল’ অফিসার হিসেবে চাকরি করতেন। সম্প্রতি ওই চাকরিও তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। আসামির কাছ থেকে কিছুই উদ্ধার হয়নি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর ওই আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেলিম প্রধানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। নিজ বাসায় হরিণের চামড়া রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই তিনজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। ২ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান থানায় তাদের বিরদ্ধে অর্থ পাচার ও মাদকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা করে র‌্যাব। মাদক আইনের মামলায় ৩ অক্টোবর ওই তিন আসামির চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলা দুটির এজাহারে বলা হয়, মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনোর আন্তর্জাতিক গডফাদার সেলিম প্রধান ৩০ সেপ্টেম্বর বিপুল পরিমাণ অর্থসহ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনালে প্রবেশ করেন তিনি। ওইদিন দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে সেলিম প্রধানকে থাই এয়ারওয়েজ (জিটি-৩২২) থেকে নামিয়ে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম প্রধান স্বীকার করেন, তার সহযোগীরা মমতাজ ভিশনের লেভেল ৩ ও ৪ এ অবস্থান করছে।

এরপর র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে তল্লাসি অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে তার বলা মমতাজ ভিশন থেকে দুই সহযোগী আখতারুজ্জামান ও রোমানকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ২৪টি বিদেশি ব্র্যান্ডের সর্বমোট ৪০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্থ ও অনলাইনে ক্যাসিনো খেলার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পায়, সেলিম প্রধান একজন মাদক ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনলাইনে ক্যাসিনোর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। সে অনলাইনে ক্যাসিনো পরিচালনাকারী বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রধান।

তার সঙ্গে আখতারুজ্জামান ও রোমান দুই সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। আসামিরা মাদক ও জুয়ার ব্যবসা করে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থবৈভবের মালিক হয়েছে। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সহযোগিতায় অনলাইনে জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা করে অবৈধভাবে দেশি-বিদেশি অর্থ আয় করেছে। তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ থাইল্যান্ড, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে।

অভিযানে আসামিরা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর ৩৪(খ) ধারায় অপরাধে তাদের প্রত্যেকের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দেয়া হয়।






আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*