Main Menu

বিকল্প ‘প্লাটফর্ম’ গড়তে অলির তোড়জোড়

চন্দ্রিমা শুক্তা:: বিএনপির বিকল্প হিসেবে আরেকটি ‘প্লাটফর্ম’ গড়তে তোড়জোড় শুরু করেছেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ইতিমধ্যে তিনি বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটে থাকা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী রাজনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছেন।

ওই ‘প্লাটফর্মে’ তার সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও জামায়াতে ইসলামী, জাগপাসহ বেশ কয়েকটি দলকে চাইছেন। এমন পরিস্থিতিতে আগামীকাল অনুষ্ঠেয় এলডিপির সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপিও। হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে অলি আহমদের তৎপরতাকে সন্দেহের চোখে দেখছে অনেকেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ যুগান্তরকে বলেন, আসলে বিষয়টি তা নয়। সর্বশেষ ২০ দলের বৈঠক হয়েছে সোমবার। এর আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল ২০ দলীয় জোটের দলগুলো যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং জাতীয় ইস্যুতে যেন আমরা মিটিং করি। তিনি আরও জানান, বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এ পদক্ষেপটা নিয়েছি। আমরা তো ২০ দলে আছি।

বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে চারটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে চলমান রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। এলডিপির পক্ষ থেকে এর আগেও সংবাদ সম্মেলন করেছি। যেখানে সবাইকে ডাকা হয়েছিল।

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অলি আহমদ সম্প্রতি গণমাধ্যমে সরকারবিরোধী চলমান রাজনীতি নিয়ে নিজের বিরক্তির কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া কারাগারে থেকে দলের নেতৃত্ব দিতে পারছেন না এবং তারেক রহমানেরও লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব নয়।’ বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘হয় আপনারা (বিএনপি) সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিন, না হয় আমাদের নেতৃত্ব দিতে দিন। আমি নিজে নেতৃত্ব গ্রহণে প্রস্তুত।’

সূত্র জানায়, অলির এ আহ্বানে বিএনপির পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় এবার তিনি নিজেই বিকল্প জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্ব গ্রহণে একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গড়ার প্রস্তুতি নিতে উদ্যোগী হয়েছেন। সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি শরিক দল ও বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গেও আলোচনাও করেছেন।

এলডিপির কেন্দ্রীয় এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি দলের সভাপতি ভারত সফর করেছেন। এরপর গত ১০ জুন রাতে তার মহাখালী ডিওএইচএসের বাসায় চীনা রাষ্ট্রদূত গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে নৈশভোজ করেছেন। এছাড়া ১৬ জুন তিনি জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে তার বাসায় বৈঠক করেছেন। বিভিন্ন উইংয়ে তিনি যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। মোট কথা খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দেশের সব জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্ব গ্রহণে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন বলেই মনে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, আগামীকালের সংবাদ সম্মেলনে এলডিপির পক্ষ থেকে জোট শরিকদের অনেক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এমনকি বিএনপিরও কয়েকজন সিনিয়র নেতাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও এলডিপির পক্ষ থেকে ওই সংবাদ সম্মেলনকে বিকল্প জাতীয়তাবাদী জোট গঠনের প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকার করা হচ্ছে না। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশে মধ্যবর্তী গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের দাবিসহ চলমান রাজনৈতিক ইস্যুতে তাদের এ সংবাদ সম্মেলন।

দলীয় সূত্র জানায়, এলডিপির পক্ষ থেকে জোট শরিকদের অনেক শীর্ষ নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। অলি আহমদ ও এলডিপির পক্ষে দলটির একজন যুগ্ম মহাসচিব তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, মরহুম শফিউল আলম প্রধানের দল জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদসহ আরও বেশ কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপনসহ আরও কয়েক নেতাকেও এলডিপির সংবাদ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির-জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমটিভিনিউজ২৪কে  বলেন, আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অলি আহমদ তার সঙ্গে থাকতে বলেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে পারছে না। ওনার অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট সাফার করছে। আমি এখন অলি আহমদকে সামনে পেয়ে একটু আশার আলো দেখতি পাচ্ছি। দেখি কি হয়- সেজন্য সংবাদ সম্মেলনে যাব।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি বিস্তারিত কিছুই জানি না। সংবাদ সম্মেলন করলে জোটের একটি দল হিসেবে আমাদের জানাবে হয়তো। কারণ এলডিপির অনুষ্ঠান হলে আমাদের দাওয়াত দেন, আমরাও তাদের দাওয়াত দিই। পারস্পরিক দাওয়াত দেয়া-নেয়ার একটা রেওয়াজ আছে আমাদের। সেটা হলে ঘটনা সম্পর্কে জনতে পারব।

এদিকে অলির নেতৃত্বে বিকল্প জোট গঠনের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। দলটির একজন নীতিনির্ধারক এমটিভিনিউজ২৪কে বলেন, বিদেশি কোনো শক্তির ইঙ্গিতে তিনি ওই তৎপরতা শুরু করে থাকতে পারেন। তবে কৌশলগত কারণে এখনই অলি আহমদের কাছে তারা কিছু জানতে চাইবেন না। জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে উপস্থিত এলডিপির প্রতিনিধির কাছেও জানতে চান জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তাদের জানানো হয়েছে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে এলডিপি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান এমটিভিনিউজ২৪কে বলেন, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য দিতেই পারেন।

কিন্তু সোমবার ২০ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে তার দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, তারা ২০ দলেই আছে এবং থাকবেন। এটা নিয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝির কারণ নেই। কাজেই তারা যদি ২০ দলে থাকে তাহলে আরেকটা জোট হবে কিভাবে?

এদিকে এ বিষয়ে জোটের আর কোনো শরিক দলের নেতা কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, তারাও অলি আহমদের উদ্যোগের কথা শুনেছেন। তার তৎপরতার দিকে নজর রাখছেন তার দলও। তবে এলডিপির সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে কেউ একজন যেতে পারেন বলে জানান জামায়াতের ওই নেতা।






আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*