Main Menu

ওয়েগনার-রাভালে প্রথমদিন নিউজিল্যান্ডের

 

সুমাইয়া বুলবুল ঐশী:: বল হাতে শাসন করেছেন নিল ওয়েগনার। একাই ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ২৩৪ রানে গুটিয়ে দিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৩ উইকেট নিয়ে তাতে জ্বালানি জুগিয়েছেন টিম সাউদি। পরে ব্যাট হাতে দুরন্ত সূচনা এনে দিয়েছেন জিত রাভাল ও টম লাথাম। দিনশেষে উদ্বোধনী জুটিতে ৮৬ রান এনে দিয়েছেন দলকে। এতে হ্যামিল্টন টেস্টের প্রথম দিন নিজেদের করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেন রাভাল-লাথাম। প্রথমে ধীর-লয়ে হাঁটেন তারা। ক্রিজে সেট হওয়ার পর হাত খোলেন। বাজে বল পেলেই সীমানাছাড়া করেন। দারুণ মেলবন্ধন গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। পথিমধ্যে ক্যারিয়ারে অষ্টম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন রাভাল। ৫১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। ফিফটির দোরগোড়ায় লাথামও। তিনি অপরাজিত আছেন ৩৫ রানে। ১৪৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনে খেলা শুরু করবেন এ জুটি।

টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। শুরুটা শুভ হয় টাইগারদের। উড়ন্ত সূচনা এনে দেন তামিম ইকবাল ও সাদমান ইসলাম। ৩২ বলে ২৪ রান করে ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন সাদমান। এতে ভাঙে ৫৭ রানের ওপেনিং জুটি।

এরপর নতুন ব্যাটসম্যান মুমিনুল হককে দর্শক বানিয়ে শটের রোমাঞ্চ ছড়ান তামিম। ১৩ ওভারের প্রথম তিন বলে বোল্টকে টানা তিনটি চার মেরে মাত্র ৩৭ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন তিনি। সতীর্থের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়ে তোলেন এ ওপেনার। তাতে দুরন্ত গতিতে ছুটছিল বাংলাদেশ।

তবে হঠাৎই খেই হারান মুমিনুল। দলীয় ১২১ রানে নিল ওয়েগনারের বলে বিজে ওয়াটলিংকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। পরে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন। তারই বলে টম লাথামকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এ টপঅর্ডার। ফের ব্যর্থ সৌম্য সরকার। তাৎক্ষণিক চাপের মধ্যে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পারেননি তিনি। টিম সাউদিকে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন বাঁহাতি ব্যাটার।

পরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন তামিম। পথিমধ্যে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। মাত্র ১০০ বলে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন ড্যাশিং ওপেনার। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি। অবশ্য সেঞ্চুরির পর খুব বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি তামিম। আর ২৬ রান যোগ করে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে কেন উইলিয়ামসনকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

এতে পুরোপুরি কক্ষচ্যুত হয় বাংলাদেশ। এর রেশ কাটতেই ওয়েগনারের বলে বোল্টকে ক্যাচ তুলে দেন মাহমুদউল্লাহ। ফেরার আগে অধিনায়ক করেন ৫ চারে ২২ রান। পরে দলকে টেনে তুলতে রোবটের মতো চেষ্টা করেন লিটন দাস। কিন্তু কেউ তাকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন জোগাতে পারেননি। মাত্র ১০ রান করে ওয়েগনারের বলির পাঁঠা হন মেহেদী হাসান মিরাজ।

দিনটি ছিল মূলত কিউই পেসার ওয়েগনারের। তবে কম যাননি সাউদি। কেউ তোপ দাগালে আরেকজনকে সমর্থন জোগাতে হয়। ঠিক সেই কাজটিই করে গেছেন তিনি। ওয়েগনারের আগুন ঝরানোর সঙ্গে চোখ রাঙিয়েছেন সাউদি। দ্রুত তুলে নেন আবু জায়েদ ও খালেদ আহমেদকে।

তবে বাংলাদেশ শিবিরে শেষ পেরেকটি ঠুকেন ওয়েগনারই। তুলে নেন লড়তে থাকা লিটনকে। শেষ পর্যন্ত ২৩৪ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। এ ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয়েছে পেসার এবাদত হোসেনের। তিনি অপরাজিত ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে নিল নেন ৫ উইকেট। এ নিয়ে টেস্টে ষষ্ঠবার ৫ উইকেটের দেখা পেলেন তিনি। ৩ উইকেট শিকার করেন সাউদি।






আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*