Main Menu

উইঘুর নারীদের বন্ধ্যা বানাচ্ছে চীন

ইয়াসমিন আক্তার:: চীনা কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে সীমান্তবর্তী দেশ কাজাখস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েকজন উইঘুর নারী। এখানে এসেও তাদের স্বস্তি নেই।

মাতৃভূমিতে যে নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন সেই স্মৃতিগুলো প্রতিনিয়ত দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করছে তাদের। এ নারীদের সবাই এসেছেন চীনের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল শিনজিয়াং থেকে।

এদের কাউকে গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। কেউ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আবার কেউ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে নগ্ন হয়ে গোসল করতে এবং গোপণাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ডলে দেয়ার মতো ঘটনা। স্থানীয় মানবাধিকার গ্রুপ ও আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এগুলো সাধারণ ঘটনা। সরকার যে ব্যাপক নির্যাতন চালায় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুসলমান নারীদের সন্তান জন্মদান ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া।

এর মাধ্যমে চীন কার্যত ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর। রোববার দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে।

চীনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই শিনজিয়াংয়ের মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। কেবল উইঘুরই নয়, কাজাখ মুসলমান ও অন্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাজাখ বংশোদ্ভূত ৩৮ বছরের গুলজিরা মোগদিনকে গ্রেফতার করে চীনা কর্তৃপক্ষ। ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ পাওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতারের পর তাকে বাড়ির পাশের এক ক্লিনিকে নেয়া হয়।

সেখানে পরীক্ষা করে জানা যায়, গুলজিরা ১০ সপ্তাহের গর্ভবতী। চীনা কর্তৃপক্ষ চিকিৎসককে গর্ভে থাকা ভ্রূণ নষ্ট করার নির্দেশ দেয়। গুলজিরাকে অচেতন না করেই ভ্রূণ নষ্ট করেন সরকারি চিকিৎসক।

দুই বছর পর এখনো সেই শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন এ কাজাখ নারী। গুলজিরা বলেন, ‘এক ট্রাজেডিতে দুটি মানুষ হারিয়ে গেল- একজন আমার অনাগত সন্তান, অপরজন আমি নিজে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নারীর আইনজীবী আইমান উমরারোভা জানান, তার মক্কেলকে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে দুই দফায় গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করে শিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ। পরে তিনি কাজাখস্তানে পালিয়ে আসেন।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসেবে, ২০১৭ সাল থেকে ‘পুনঃশিক্ষা শিবিরে’ ১০ থেকে ৩০ লাখ মুসলমানকে বিভিন্ন মেয়াদে আটক রেখেছে। তাদের অধিকাংশই উইঘুর সম্প্রদায়ের।

উইঘুর বংশোদ্ভূত আলমাস নিজামুদ্দিন নামের এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকসহ দু’জনের সঙ্গে কথা বলেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। দু’জনই জানিয়েছেন, তাদের স্ত্রীদের এখনো আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ২০১৭ সালে তাদের গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করে কর্তৃপক্ষ।

২০০৯ সালে চীনা হানদের সঙ্গে দাঙ্গা বাধে উইঘুরদের। ওই সময় অন্যদের সঙ্গে আটক করা হয়েছিল ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষার্থী রুকাইয়া পেরহাতকে। চার বছর তাকে বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়েছিল। মুক্তি পাওয়ার পর তুরস্কে গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। আটক অবস্থায় চীনা হান নিরাপত্তারক্ষীরা একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন রুকাইয়া। এর পরিণতিতে তিনি দু’বার গর্ভবতী হন এবং দু’বারই তাকে গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করা হয়।

কাজাখস্তানে পালিয়ে আসা অনেক নারী জানিয়েছেন, তাদের দলবেঁধে নগ্ন হয়ে গোসল করতে বাধ্য করা হতো। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওয়াশিংটন পোস্টের পক্ষ থেকে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিকের কাছে চীনা সরকার প্রকাশিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে একটি বই তুলে দেয়। বইটির মধ্যে ‘প্রশিক্ষণার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা’ শিরোনামের একটি অধ্যায়ও রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘আপনারা বইটি পড়লে এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করতেন না।






আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*